ঐতিহ্যবাহী খালিয়া কুমার পল্লী


প্রতি দিন চাকা ঘোরাতে হয় । চাকার এক একটি পাকে চলে সংসার। কাঠের তৈরি চাকাটি কোটিপাক ঘুরছে তাতেও তাদের ভাগ্যের চাকা মরিচা ধরা । অভাব অনটন আর দুঃখ তাদের পিছু ছাড়ে না । পেশায় তারা কুমার বা পাল ।
 দিন দিন যে ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তাতে তারা পেশা নিয়ে বেশ চিন্তিত । প্রযুক্তির হাওয়া বদলে ঘুরিয়ে মাটির তৈরি হাড়ি ,পাতিল, বাসন কোসনের প্রচলন দিনকে দিন হারিয়ে যাচ্ছে । তারপরও দেশে এমন এলাকা বা এমন গ্রাম আছে যেখানে এখনো বাংলার ঐতিহ্য তারা ধরে রেখেছে । এমন কি সে গ্রাম জুড়ে একটিই পেশা আদিকাল ধরে চলে আসছে । গ্রামটি মাদারীপুর জেলার খালিয়া ইউনিয়নের কুমার পাড়া বা কুমারপল্লী। পুরানো একটি ছোট গ্রাম । এ গ্রামে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা শতাধিকের উপরে।
 শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা কম হলেও কর্মঠ মানুষের সংখ্যা বেশি । গ্রামটিতে হিন্দুদের সংখ্যা বেশি । মজার ব্যাপার গ্রামটিতে একটি পেশাই আদিকাল থেকে চলে আসছে । গ্রামের মানুষ সকাল থেকে গভীর রাত অবধি কাজ করে । গ্রামে বসবাসকারী শ’কয়েক লোকের মধ্যে সব বয়সী মানুষই এ পেশায় জড়িত । অর্থাৎ বসবাসকারী সব পরিবারই কুমার পেশায় নিয়োজিত পরিবার । গ্রামের সব ব্যস্ততায় সময় কাটায়কুমার পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিটি বাড়ি তে চলে দিনভর মাটির তৈরি হাড়ি পাতিল, ঢাকনা, কলস,পুতুল,ভাশি, ডাবর, ধুপদানি, প্রদীপ, থালা, সরা, পটে আকা লক্ষীর সরা,তাগাড়ি,জল ঘট,জলেরপট, খেলনা, কড়াই, ফুলের টব, পিঠা বানানোর সাজ, মুর্তি, প্রতিমা, চুলা, ইত্যাদি বানানোর কাজ । এছাড়া প্রতিটি বাড়ির চেহারাও একই রকম। একই কাজের জন্য ভাড়ির আশ পাশের পরিবেশ একই ধরনের গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়বে খোলা জায়গাগুলোতেই সারিসারি মাটির তৈরির হাড়ি পাতিল সাজানো যার সংখ্যা হাজার হাজার দেখে মনে হবে মাটির হাড়ি পাতিল আর মাটির একটি বিশাল পাহাড় । প্রায় বাড়ীতে ঢুকলে চোখে পড়বে হাড়ি আর মাটির তৈরির বাসন কোন গুলো কাচা ,অর্থাৎ পোড়ানো হয়নি আবার কোনো গুলো পুড়ে শুকিয়ে গ্রামের প্রতিদিনই কয়েকটি ট্রাক আসে এবং মাটির হাড়ি সাজানো ট্রাক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায়। দুপুর বেলা গ্রামটিতে চলে দ্রুতগতিতে কাজ । তখন সব বাড়ী কুমাররা এক সঙ্গে কাজে নামেন । গ্রামের নারী পুরুষ সবাই মাটির তৈরির বাসন বানানোতে বেশ দক্ষ ।

 শিশু থেকে পৌঢ় সবার এ কাজ জানা ।মাটি ছ্যানা থেকে শুরু করে একদম হাড়ি বানানো পর্যন্ত সবকিছুতে সময় লাগে পাচ মিনিট এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি হাড়ি বানানো সম্ভব । তৈরিকৃত হাড়িটি কাঠদিয়ে ঠিক করে রোদে দিতে হয় । হাড়িটি আগুনে পুড়লে পুর্নাঙ্গ একটি হাড়ি । কুমার পল্লী হিন্দু ধর্মবলম্বীদের সংখ্যা বেশী হলেও কাজ গুলো এখন হিন্দু মুসলমান দু ধর্মের লোকেরা সমান ভাবে করছে । 
জীবিকা নির্বাহে প্রতিদিন কাকডাকা ভোর থেকে রাত অবধি মাটির বাসন কোসন তৈরি করে চলছেন। তখন থেকে এখানে হিন্দু পাল বংশের আর্বিভাব ।
 পালদের আনা হয় প্রতিমা, মুর্তি ,হাড়ি পাতি বানানোর কাজের তবে শুধু রাজা -জমিদারদের জন্য । কিন্তু রাজা- জমিদারদের প্রথা উঠে যাওয়ার পর কুমার পল্লী গ্রামের কুমাররা বেকার হয়ে যায় । পরে তারা নিজেরা মাটির বাসন তৈরি করে নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে রাস্তায় ঘুরেঘুরে বিক্রি করতে শুরু করেন । এ নিয়ম চলে আসছে অনেক বছর ধরে নিখুত হাতের ছোয়ায় মাটির বাসন কোসন বানানো সম্পর্কে তিনি বলেন ছোট বেলা থেকে চেষ্টা সাধনা করলেই এমন কাজ সহজে পারা যায় । তা ছাড়া এ বংশে যারা জম্ম গ্রহন করে ঈশ্বর প্রদও ক্ষমতা তাদের মধ্যে থেকে যায় এসব তৈরিতে।একটি হাড়িতে ৫ থেকে ১০টাকা লাভ হয় ।
 সংসার চালানোর জন্য এক একটি বাড়ীেেত প্রতিদিন কমপক্ষে এক হাজারেরও বেশী মাটির তৈরি হাড়ি পাতিল বাসন কোসন বানানো হয় । কুমার পেশায় প্রধান গ্রামটিতে তরুন প্রজম্মের কাছে পড়া শোনা প্রাধান্য পেয়েছে পড়াশোনার পাশাপাশি তারা একাজটিও চালিয়ে যাচ্ছে ।

মাধবপুর লেক

,
প্রকৃতিই পারে জীবনের রং পাল্টে দিতে,বাংলাদেশের সিলেটের মৌলভিবাজারের মাধবপুর লেক যেন তারই সত্যতা প্রকাশ করছে। চলুন না এই বর্ষায় ঘুড়ে আসি মাধবপুর থেকে। মাধবপুর লেকে যেতে যেতে চোখে পড়বে চোখজুড়ানো চা-বাগান।
সারি সারি চা-গাছ বুকে-পিঠে নিয়ে এদিক-ওদিকে দাঁড়ানো টিলা। সেসব টিলার মাঝেই টলমলে জলের হ্রদ। হ্রদে ভাসছে শাপলা-শালুক। ছায়াবৃক্ষের ডালে বসে ডাকছে পাখিরা। মাধবপুর লেকের এমন সৌন্দর্যে মন হারানোর কেমন একটা ভাব যে-কাউকেই পেয়ে বসবে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে মাধবপুর লেকের সাকিন। শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের ভানুগাছ চৌমোহনা থেকে ভানুগাছ-ধলই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সড়ক দিয়ে মাধবপুর বাজার। বাজার থেকে ডান দিকে ঢুকে গেছে একটি সড়ক।
সড়ক ধরে কিছু দূর এগোতেই দেখা মেলে দলবদ্ধ বা দলছুট লোকজনের আনাগোনা। তাঁরা সবাই পর্যটক। একঘেয়ে জীবনে স্বস্তির খোঁজে তাঁরা এসেছেন সবুজ-শ্যামলে ঘেরা এই হ্রদ দেখতে।
মাধবপুর লেকে পর্যটকের আনাগোনা প্রায় প্রতিদিনেরই ঘটনা। এখানে এসে সবাই সবুজে মিশে যেতে চান। প্রাণভরে নেন শ্বাস। হ্রদের পানিতে আত্মছায়ার মাঝে নিজেকে ফিরে পাওয়ার সুযোগ মেলে।
লালচে মাটির সড়কের দুপাশে মেহগনি, নিম, অর্জুনসহ নানা জাতের গাছ। গাছে চোখে পড়ে টিয়া পাখি। সবুজের সঙ্গে অপার মেলবন্ধন তাদের। রঙে-ঢঙে মিলেমিশে পালকে হাওয়া মাখছে তারা। অন্য পাখি যে নেই, তা নয়। দেখা মেলে ঘুঘু কিংবা শালিকের। অনেক অচেনা পাখিও এডাল-ওডাল করে বেড়ায়।
এখন বর্ষাকাল। শীত চলে গেছে কবে! নয়তো এই হ্রদে ডুব-সাঁতারে ঘুরে বেড়ানো পরিযায়ী পাখির দেখা মিলত। তবে সরালি, পানকৌড়ি, জলপিপি—এ রকম কিছু পাখি বারো মাসই এই হ্রদের স্থায়ী বাসিন্দা।
হ্রদের দুপাশের টিলাগুলোতে চায়ের গাছ। চা-বাগান যেন হ্রদকে দুই পাঁজর দিয়ে আগলে রেখেছে। এটি মূলত মাধবপুর চা-বাগানেরই অংশ। চা-গাছের ফাঁকে ফাঁকে চিরল পাতার ছায়াবৃক্ষ। হ্রদের কিনার ঘেঁষে চেনা-অচেনা অনেক ঝোপঝাড়। ঝোপঝাড়ে ফুটে আছে হরেক রকমের মায়া লাগা বুনো ফুল।
হ্রদের পারে পারে চা-গাছের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। হ্রদের পার ঘেঁষে হাঁটার জন্য চা-বাগান কর্তৃপক্ষ তৈরি করেছে সরু পথ। টিলার ওপর আছে তাঁবু। ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্তি পেলে এখানে একটু জিরিয়ে নেওয়া যায়। শীত মৌসুমে যেকোনো জায়গায় বসা যায়। কিন্তু বর্ষায় হয় তাঁবু, নয়তো সঙ্গের ছাতাটিই ভরসা।
টিলার ওপর থেকে যেদিকেই চোখ যায়, দেখা মেলে বনের নীল রেখা। অনেক দূরে গিয়ে নীল রেখা যেন ছুঁয়েছে আকাশের সীমা!
মাধবপুর লেকে একসঙ্গে জল, পাহাড়, চা-বাগান, আর বুনো নির্জনতার আমেজ মেলে।
ছুটিতে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে অনেকেই মাধবপুর লেকে ছুটে আসেন। তবে এখানে রাত কাটানোর সুযোগ নেই। সন্ধ্যার আগেই বেরিয়ে পড়তে হয়।
শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের নূরজাহান চা-বাগানের পথ দিয়েও মাধবপুর লেকে যাওয়া যায়। পথটা পাহাড়ি আর সবুজে মোড়ানো। এই পথে চোখজুড়ানোর নানা রসদ আছে। শান্ত-সবুজ চা-বাগানের দেখা মিলবে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গভীর বনটাও একনজর দেখে নেওয়া যাবে।
ভানুগাছ-ধলই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সড়কে একটি ঐতিহাসিক স্থান আছে। সড়কের শেষ প্রান্তে ধলই সীমান্তে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ রয়েছে। স্মৃতিসৌধের স্থানটির দূরত্ব মাধবপুর লেক থেকে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার মতো দক্ষিণে।

মাধবপুর লেকে যেতে হলে ট্রেন বা বাসে করে শ্রীমঙ্গল অথবা কমলগঞ্জে আসতে হবে। তারপর কমলগঞ্জের ভানুগাছ চৌমোহনা থেকে মাধবপুর লেক। প্রাইভেট কার বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সেখানে যাওয়া যায়। রাতে থাকতে হলে শ্রীমঙ্গলে বেশ কিছু রিসোর্ট আছে।

ভরতের দেওল



চলো না ঘুরে আসি অজানাতে! অনুসন্ধানী মনের জানালা খুলতে বা ভ্রমণপিপাসু মনের ক্ষুধা মেটাতে আমরা সবাই প্রতি বছর কোনো না কোনো দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে বের হই। ভ্রমন যাদের নেশা,
বেড়ানোর সুযোগ এলে তারা পাখা মেলে উড়িয়ে দেন মনের পর্যটক সত্ত্বাকে।
বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল; যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ভরত ভায়নায় অবস্থিত ভরতের দেউল পর্যটকদের জন্য হতে পারে একটি দর্শণীয় স্থান। উপজেলা সদর হতে ১৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব কোন ভদ্রানদীর তীরে গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ভরতভায়না গ্রামে ভরতের দেউল অবস্থিত।
রাজা দশরথের দ্বিতীয় স্ত্রী রানী কৈকেয়ীর গর্ভজাত পুত্র ভরত রাজার নাম অনুসারে ভরতের দেউল নামকরণ করা হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
খুলনা-যশোর সীমান্তে কেশবপুর উপজেলার ভদ্রা নদীর পশ্চিম তীরে ঐতিহাসিক ও প্রাচীন যুগের অনেক নিদর্শন নিয়ে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে কালের স্বাক্ষী হয়ে প্রায় আঠারো’শ বছর আগে থেকে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে ভরত রাজার এই দেউল।
কীভাবে যাবেনঃ
ভরতের দেওল দেখতে হলে আপনি যেখানে থাকেন না কেন, আপনাকে প্রথমে খুলনার জেলার চুকনগরে আসতে হবে।
সেখান থেকে ভ্যান, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান অথবা মোটরসাইকেলে করে আপনাকে ভরত ভায়না নামক স্থানে যেতে হবে।
সেখানে যাওয়ার পর যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে বলে দেবে ভরতের দেউল কোথায়।
সৌন্দর্যের দিক থেকে কোনো কমতি নেই স্থাপনাটির।

রকস্ মিউজিয়াম



উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে বছরজুড়ে থাকে দেশীয় এবং ভিনদেশি পর্যটকদের আনাগোণা। জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক এবং দর্শনীয় স্থান ঘুরে পর্যটকদের চোখ আটকে যায় দৃষ্টি নন্দন পাথরের জাদুঘরে।
পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের একমাত্র এ পাথরের জাদুঘর। এখানে রয়েছে নতুন এবং পুরনো পাথরের রকমারি সমাহার। তবে নামকরণ এবং পরিচয়ে পাথরের এ জাদুঘর ‘রকস্ মিউজিয়াম’ নামেই পরিচিত।

পাথরের গায়ে লেখা ইতিহাস থেকে পরিচিত হচ্ছেন ঐতিহ্যের সঙ্গে।
পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের একটি কক্ষে ১৯৯৭ সালে রকস্ মিউজিয়ামটি প্রতিষ্ঠা করেন কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ড. নাজমুল হক। এ মিউজিয়ামে রয়েছে হাজার বছরের নানান আকৃতির পাথরসহ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
প্রত্যেকটি পাথরের পাশে লেখা রয়েছে কোথা থেকে এবং কারা সংগ্রহ করেছেন এ মূল্যবান প্রত্নসম্পদ। এখানে রয়েছে আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা, নুড়ি পাথর, সিলিকা নুড়ি ও সিলিকা বালি, হলুদ ও গাঢ়
হলুদ বালি, কাঁচবালি, খনিজবালি, লাইমস্টোন, পলি ও কুমোর মাটি এবং কঠিন শিলাসহ আরও অনেক প্রত্নসম্পদ।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের মূলফটক পার হলে ডান পাশে দেখা যায় ছোটবড় পাথরে সাজানো মাঠের একাংশ। পাথরের এ জাদুঘরের সামনে গোল চক্করের অবয়বে বেশ কয়েকটি বড় আকারের পাথর বসানো রয়েছে। এসব পাথরের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছর। এর বর্ণনা রয়েছে পাশের ছোট্ট নাম ফলকে।
দুই প্রকার গ্যালারি নিয়েই এ পাথরের জাদুঘর। ঘরের ভেতরের গ্যালারিতে রয়েছে বিভিন্ন আকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা, তরঙ্গায়িত চ্যাপ্টা পাথর, লাইমস্টোন এবং কঠিন শিলা। রয়েছে আদিবাসীদের ব্যবহৃত পণ্য সামগ্রী, নদীর নিচে ও ভূগর্ভে পাওয়া অশ্মীভূত কাঠ, প্রায় দুই হাজার বছরের পুরনো ইমারতের ইট-পাথরের মূর্তি। রয়েছে পোড়ামাটির নকশা। পাথরের এ জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ আস্ত শাল গাছের বিশাল আকৃতির একটি ঐতিহ্যবাহী ডিঙ্গি নৌকা। প্রায় হাজার বছরের পুরোনো ২৫ ফুট দৈর্ঘ ডিঙ্গি নৌকাটি ১০৯৯ সালে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের চাওয়াই নদীর মাহানতের ঘাটের ৮ ফুট নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এটি একটি আস্ত শালগাছ খোদাই করে নির্মাণ করা হয়। প্রাচীনকালে আদিবাসীরা এই নৌকাটি ব্যবহার করতেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আর বাইরের গ্যালারিতে রয়েছে বড় আকারের বেলে পাথর, গ্রানাইট পাথর, কোয়ার্জাহিট, ব্যাসল্ট, শেল, সিলিকায়িত কাঠ বা গাছ থেকে রুপান্তরিত পাথর। এসব পাথরের কোনোটি গোলাকার, আবার কোনো কোনোটি চেপ্টা অথবা লম্বাকার। পাথরের গায়ে আঁকা রয়েছে নানা রকমের সাংকেতিক চিহ্ন।
জাদুঘরের বিভিন্ন দেয়ালে শোভা পাচ্ছে আদিযুগে ব্যবহৃত দা, কাচি, কদালসহ ঐতিহাসিক নানান নিদর্শন।
দেশ বিদেশের ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা পঞ্চগড়ে ছুটে যান উত্তরের শেষ সীমান্ত তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা। বাংলাবান্ধার জিরোপয়েন্ট, স্থলবন্দর, তেঁতুলিয়ার চা বাগান ঘুড়ে তারা দেখতে আসেন দেশের একমাত্র পাথরের জাদুঘর ‘পঞ্চগড় রকস্ মিউজিয়াম’। খুটে খুটে তারা পাথর দেখেন
বাংলাদেশের একমাত্র পাথরের জাদুঘর বা রকস

কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সরাসরি পঞ্চগড় যাবার জন্য বিভিন্ন ডে-নাইট বাস সার্ভিস চালু আছে। নন-এসি হানিফ অথবা নাবিল পরিবহনণের বাসে সরাসরি পঞ্চগড়।এছাড়া আরও বাস রয়েছে।
ঢাকা থেকে ট্রেনে সরাসরি পঞ্চগড় যাবার সুযোগ নেই, এক্ষেত্রে সন্ধ্যায় দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেন দিয়ে দিনাজপুর বা পার্বতীপুর যেতে হবে। দিনাজপুর যেতে প্রায় ভোর ৬ টা বাজবে, এরপর ৩ ঘন্টার বাস জার্নিতে চলে যান পঞ্চগড়। এছাড়া দিনাজপুর কিংবা পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশান থেকে লোকাল ট্রেন ও ডেমু ট্রেন পঞ্চগড় যায়। সময় মিলে গেলে সে সব ট্রেনে চলে যেতে পারেন পঞ্চগড়।
কোথায় থাকবেন
রাত্রি যাপনের জন্য পঞ্চগড়ে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল পাবেন।
কোথায় খাবেন
যদি ট্রেনে যাত্রা করেন তবে দিনাজপুরে রুস্তম কিংবা ফাইভ স্টার হোটেলের গরুর ভুনা মাংস মিস করা ঠিক হবে না। এছাড়া দিলশাদ হোটেল আর রোলেক্স ফুডের খাবার চেখে দেখতে পারেন। পঞ্চগড় শহরে খাবার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল পাবেন তবে মৌচাক হোটেলের খাবার খেয়ে দেখতে পারেন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া




প্রাচীন ঐতিহ্যের স্মৃতি কালের গহ্বরে ঢাকা পড়লেও এর নিদর্শন চিরকাল অম্লান হয়ে থাকে। রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ার জমিদার বাড়িটি তেমনই একটি স্মৃতিচিহ্ন। এ বাড়িটিকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে রূপগঞ্জের ইতিহাস, কৃষ্টি, সভ্যতা ও আজকের এই কোলাহলপূর্ণ জন বসতি। 
শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ঘেঁষে মহাকালের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এ জমিদার বাড়ি। ছায়া নিবিড় পরিবেশে গড়ে ওঠা মনোমুগ্ধকর এ জমিদার বাড়ির যে কোন ভ্রমণপিপাসুর মন কাড়ে।
গোড়াপত্তনের ইতিহাস : রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার মুড়াপাড়া এলাকায় ৫২ বিঘা জমির উপর এই প্রকাণ্ড জমিদার বাড়ি অবস্থিত। 

জমিদার বাবু রাম রতন ব্যানার্জী তৎকালীন মুড়াপাড়া জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং জমিদারদের ঊর্ধ্বতন ষষ্ঠ পুরুষ। তিনিই মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ির গোড়াপত্তন করেন। রাম রতন ব্যানার্জীর পুত্র পিতাম্বর ব্যানার্জী এবং তৎপুত্র প্রতাপ চন্দ্র ব্যানার্জী শাহজাদপুরের জমিদারি ক্রয় করে জমিদারি বর্ধন করেন। কথিত আছে, জমিদারি ক্রয় সূত্রে প্রতাপ ব্যানার্জীর সঙ্গে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঠাকুরদা প্রিন্স দ্বারকা নাথ ঠাকুরের প্রগাঢ় বন্ধুত্ব ছিল।
 ১৮৮৯ সালে প্রতাপ চন্দ্র ব্যানার্জীর পৈতৃক এজমালি পুরনো বাড়ি ত্যাগ করে আলোচ্য এ প্রাসাদের পেছনের অংশ নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। প্রতাপ চন্দ্র ব্যানার্জীর পুত্র বিজয় চন্দ্র ব্যানার্জী ১৮৯৯ সালে প্রাসাদের সম্মুখ অংশের একতলা ভবন নির্মাণ ও সেখানে ২টি পুকুর খনন করার পর হƒদরোগে মারা যান। তিনি ছিলেন এ অঞ্চলের প্রথম গ্রাজুয়েট। বিজয় চন্দ্র ব্যানার্জীর দুই সুযোগ্য পুত্র জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জী ও আশুতোষ চন্দ্র ব্যানার্জী ১৯০৯ সালে প্রাসাদটির দোতলার কাজ সম্পন্ন করেন। এ অঞ্চলে জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জীর নাম সমধিক প্রসিদ্ধ। কারণ তিনি দু’বার দিল্লির কাউন্সিল অব স্টেটের পূর্ববঙ্গ থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 
জমিদার জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জী প্রজা সাধারণের কল্যাণসাধনের জন্য স্থাপন করেছেন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও পুকুর । ১৯৪৭ সালে তৎকালীন জমিদার জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জী সপরিবারে কলকাতায় চলে যান। ফলে জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জীর প্রতাপশালী সেই রাজবাড়িটি বিরান হয়ে যায়।

মেঘলা পর্যটন এলাকা





মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রটি বান্দরবন শহরের প্রবেশদ্বার বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পাশে অবস্থিত। বান্দরবান জেলা শহরে প্রবেশের ৫ কি:মি: আগে মেঘলা পর্যটন এলাকাটি অবস্থিত। 
মেঘলায় চিত্তবিনোদনের বিভিন্ন উপকরণের মধ্যে রয়েছে- চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, সাফারি পার্ক, প্যাডেল বোট, ক্যাবল কার, উন্মুক্ত মঞ্চ ও চা বাগান। এখানে সবুজ প্রকৃতি, লেকের স্বচ্ছ পানি আর পাহাড়ের চূঁড়ায় চড়ে দেখতে পাবেন ঢেউ খেলানো বান্দরবানের নয়নাভিরাম দৃশ্য। 


বেশ কিছু উঁচু নিচু পাহাড় দ্বারা ঘেরা একটি লেককে ঘিরে গড়ে উঠেছে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র। ঘন সবুজ গাছ আর লেকের স্বচ্ছ পানি পর্যটকদের প্রকৃতির কাছাকাছি টেনে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
প্রবেশ মূল্যঃ
মেঘলা (Meghla) পর্যটন কমপ্লেক্সে জনপ্রতি প্রবেশ ফি ২০ টাকা এবং গাড়ির পার্কিংয়ের জন্য ১৫০-২০০ টাকা।
কীভাবে যাবেনঃ
প্রথমে আপনাকে বান্দরবান (Bandarban) শহরে যেতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে কয়েকটি পরিবহন কোম্পানির গাড়ি ছেড়ে যায়। যেমন শ্যামলি, হানিফ, ইউনিক, এস আলম, ডলফিন- এর যেকোনো একটি বাসে চড়ে আপনি বান্দরবানের যেতে পারেন। রাত ১০ টায় অথবা সাড়ে ১১টার দিকে কলাবাগান, সায়েদাবাদ বা ফকিরাপুল থেকে এসব বাস বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। নন এসি বাসে জন প্রতি ভাড়া ৫৫০ টাকা। এসি ৯৫০ টাকা।চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান যেতে পারেন। বদ্দারহাট থেকে বান্দারবানের উদ্দেশে পূবালী ও পূর্বানী পরিবহনের বাস যায়। এসব বাসে জনপ্রতি ২২০টাকা ভাড়া রাখা হয়।এরপর বান্দরবান বাস ষ্টেশন থেকে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স যেতে লোকাল বাসে জনপ্রতি ১০-১২ টাকা এবং টেক্সি রিজার্ভ ১০০-১২০ টাকা, এবং ল্যান্ড ক্রোজার, ল্যান্ড রোভার ও চাঁদের গাড়ী ৪৫০-৫০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে।

মিরসরাই এর নয় স্টেপ এর ঝর্না




বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের পাহাড়ে অবস্থিত একটি জলপ্রপাত। মিরসরাই এর এই নয় স্টেপ এর ঝর্না বিস্ময়কর। খৈয়াছড়া – আকার আকৃতি ও গঠনশৈলির দিক দিয়ে এটা নিঃসন্দেহে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণাগুলোর ১টি । এর মোট ৯ টি মুল ধাপ এবং অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ প্রমান করে যে এমন আর একটা ঝর্ণাও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। খৈয়াছড়াতে সব সময় জ্বলে (এমন কি বৃষ্টিতেও) এমন একটি পাহাড় আছে, সেখানে আগুন কখনও নিভে না। প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে দেশের ভ্রমণপিয়াসী মানুষ। অনেকে রাতের বেলায় চাঁদের আলোয় ঝর্ণার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পাহাড়ের পাদদেশে তাবু টাঙ্গিয়ে অবস্থান করছেন। প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি সেতুবন্ধন করে, সবুজের চাদরে ঢাকা বনানী রূপের আগুন ঝরায়, যেখানে প্রকৃতি খেলা করে আপন মনে, ঝুম ঝুম শব্দে বয়ে চলা ঝর্ণাধারায় গা ভিজিয়ে মানুষ যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ থেকে নিজেকে ধুয়ে সজীব করে তুলছে খৈয়াছরা ঝর্ণায়। অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ, যা বাংলাদেশের আর কোন ঝর্ণাতে এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি। তাই ‘খৈয়াছড়া’ কে বলা হয় বাংলাদেশের ‘ঝর্ণা রাণী‘।

জায়গাটা মিরসরাই ঠাকুরদা দিঘির আগেই পড়ে। গ্রামের সবুজ শ্যামল আঁকা বাঁকা মেঠো পথ পেরিয়ে শরীরটা একটু হলেও ভিজিয়ে নেয়া যায় নিঃসন্দেহে। মিরসরাইয়ের এই খৈয়াছড়ায় নয় স্তরের ঝর্ণা দেখতে দেশি বিদেশি পর্যটকের ভিড় পড়েছে। দেশের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক ঝর্ণাটি দেখতে প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছে হাজার হাজার দেশি বিদেশি পর্যটক। খৈয়াছড়া এলাকার পাহাড়ে অবস্থান বলে এর নামকরণ করা হয়েছে খৈয়াছড়া ঝর্ণা।


 মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের উত্তর পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪.২ কিলোমিটার পূর্বে ঝর্ণার অবস্থান। এর মধ্যে এক কিলোমিটার পথ গাড়িতে যাওয়ার পর বাকি পথ যেতে হবে পায়ে হেঁটে। বাঁশের সাকো, ক্ষেতের আইল, আঁকাবাকা পাহাড়ী পথ, ছরা, অন্তত ৪টি পাহাড় পেরিয়ে যখন ঝর্ণার স্বচ্ছ জলে যখন গা ভিজাবে পর্যটক, তখন মনে হবে পথের এই দুরত্ব খুব সামান্য।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
ঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তা বেশ দুর্গম এবং পাথরের যায়গা পিচ্ছিল থাকতে পারে। তাই সতর্ক হয়ে পথ চলবেন। মারাত্মক কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ওই দুর্গম রাস্তা পাড়ি দিয়ে ফিরে আসা অনেক কঠিন হবে।

Travel

ঘুরে আসুন হামহাম জলপ্রপাত

প্রকৃতির অপরূপ লীলাভুমি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় নতুন সন্ধান পাওয়া রোমাঞ্চকর নয়নাভিরাম হামহাম জলপ্রপাত একনজর দেখার জন্য দেশের বিভ...